স্বাস্থ্য

ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার,ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত সমস্যা ও রোগ,ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কেন খাবেন

Spread the love

ভিটামিন সি সম্পর্কিত তথ্য: ভিটামিন সি সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি দেহের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে চোখের লেন্স, কোষের ভেতরকার নিউক্লিয়াস, ত্বক ও হাড়ের কোলাজেনকে সুরক্ষা দেয় ভিটামিন সি। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা বা রক্তের লৌহ শোষণেও ভিটামিন সির ভূমিকা রয়েছে। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের চলাচল ও তথ্য আদান-প্রদানে এটি ভূমিকা রাখে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন মূলত শাকসবজিতেই পাওয়া যায়। লেবু ও লেবুজাতীয় সব টক ফল ভিটামিন সির চমৎকার উৎস। কমলা, মালটা, আঙুর, পেঁপে, আনারস, জাম ইত্যাদি ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। সবুজ পাতা গোত্রের সব সবজি ও শাকেও পাওয়া যাবে এই ভিটামিন। এ ছাড়া কিছু মসলাজাতীয় উদ্ভিদ যেমন: কাঁচা মরিচ, পুদিনাপাতা বা পার্সলেপাতা ভিটামিন সির ভালো উৎস।

কাটা-ছেঁড়া বা অস্ত্রোপচারের পর ভিটামিন সি বেশি করে খাওয়া উচিত, এতে ঘা দ্রুত শুকায়। ঠান্ডা-সর্দি বা জ্বরেও এটি দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। নিউট্রিশন ফ্যাক্ট।

ভিটামিন সি কি?


ভিটামিন-সি যার রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ( Ascorbic Acid )। এটি একটি জৈব অম্ল, যা শাকসবজি, ফল প্রভৃতিতে পাওয়া যায়। যার রাসায়নিক সংকেত C6H8O6 এটি সাদা দানাদার পদার্থ। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ‘ভিটামিন-সি’ দ্বারা মূলত এর একাধিক ভিটামারকে বোঝানো হয় যেগুলো প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহে ভিটামিন-সি এর মত কাজ করে।

এসব ভিটামারের মধ্যে অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ এর বিভিন্ন লবণ ও ডিহাইড্রোঅ্যাসকরবিক অ্যাসিডের (dehydroascorbic acid) মত কিছু জারিত (oxidized) যৌগ বিদ্যমান। অ্যাসকরবেট বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, এ দুয়ের যেকোন একটি দেহে প্রবেশ করলে প্রাকৃতিকভাবে দুটি পদার্থই প্রস্তুত হয়। এর কারণ, এরা pH এর মানের তারতম্যের সাথে একটি থেকে আরেকটিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এটি কমপক্ষে আট রকমের উৎসেচক সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

উদাহরণস্বরূপ, এটি বিভিন্ন কোলাজেন সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যেগুলোর অভাবে স্কার্ভি রোগের উপসর্গসমূহ দেখা দেয়।[১] প্রাণীদের দেহে এই বিক্রিয়াসমূহ প্রধাণত ক্ষত-পূরণে ও কৈশিক রক্তনালী থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। অ্যাসকরবেট জারণজনিত পীড়ন (oxidative stress) রোধে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

ভিটামিন-সি এর অভাবজনিত সমস্যা ও রোগ


১. যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর অভাব রয়েছে, তারা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শরীরে শক্তি কমে যায়, অবসন্ন হয়ে পড়েন।

২. শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে বিরক্তিভাব দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

৩. যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হয়, তাদের হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।

৪. ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে গিঁটে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথার সমস্যা হয়।

৫. ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে দেহে কালশিটে দাগ পড়ে।

৬. ভিটামিন-সি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এর ঘাটতি দেখা দিলে এসব অংশে সমস্যা হতে পারে।

৭. ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়াও ভিটামিন-সি-এর ঘাটতির লক্ষণ।

৮. ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কেন খাবেন


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বুস্ট করে ভিটামিন সি। করোনায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবারে নজর দিতে জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু শীতে করোনার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে, ভিটামিন সি-এর প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যাচ্ছে। ওষুধের চেয়ে খাবারের মাধ্যমে এই ভিটামিন নিলে দ্বিগুণ পুষ্টি পায় মানবদেহ।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কেন খাবেন
ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কেন খাবেন

হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা কিংবা ত্বকের সমস্যা রোধে সাহায্য করে ভিটামিন সি। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন সি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

শীতকালের ফলগুলো এখন সারাবছরই পাওয়া যায়। শীতের সময়টাতে ফলন বেশি হওয়ায় ফলগুলোর তুলনামূলক সাধ্যের মধ্যেই থাকে। যা সব শ্রেণির মানুষের জন্য সহজলভ্য। ইমিউনিটি বুস্ট বা রোগ প্রতিরোধে শীতের এ সময়টাতে ভিটামিন সি যুক্ত ফলগুলো খাওয়ার পরামর্শ ডাক্তারদের।

ভিটামিন সি খাওয়ার সেরা সময় কখন


একইসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ও হাড়ের উপকার করে যে উপদান, সেটি হলো ভিটামিন সি। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য দ্রুত অসুখ থেকে মুক্তি দিয়ে সুস্থ করে তোলে। তবে এটি সঠিক পরিমাণ এবং দিনের মধ্যে সঠিক সময়ে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো প্রয়োজনীয় উপকার নাও মিলতে পারে।

প্রতিদিন কতটা ভিটামিন সি খাওয়া উচিত

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে৬৫-৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীর ক্ষেত্রে ডোজটি ১২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত যেতে পারে।

ডায়েটে ভিটামিন সি যুক্ত করার সেরা উপায় কী

ভিটামিন সি এর ভালো উৎস হলো কাঁচা মরিচ, কমলা, লেবু, ব্রোকলি এমনকি স্ট্রবেরি। বেশিরভাগ ফল এবং শাকসবজি সমৃদ্ধ উৎস হলেও, রান্না করার সময় অ্যাসকরবিক অ্যাসিড কমে যেতে পারে। অতএব, প্রতিদিন যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন তা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ডায়েটে ভিটামিন সি যুক্ত করার সেরা উপায় কী
ডায়েটে ভিটামিন সি যুক্ত করার সেরা উপায় কী

কেন সবার ভিটামিন সি খাওয়া উচিত

প্রতিদিনের খাবারে আপনার জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন সি আছে মানে হলো আপনি সুস্থতার দিকে অনেকটাই এগিয়ে। এটি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।

"ভিটামিন সি এর প্রচুর সুবিধাসমূহ

কখন ভিটামিন সি খেলে বেশি উপকার মিলবে

যদিও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সমস্ত ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ করা অপরিহার্য তবে এগুলো সবটা আমাদের শরীরে একইভাবে সংশ্লেষিত হয় না। সুতরাং, এগুলো কখন এবং কীভাবে খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিতে হবে।

কখন ভিটামিন সি খেলে বেশি উপকার মিলবে
কখন ভিটামিন সি খেলে বেশি উপকার মিলবে

ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি, যা খালি পেটে গ্রহণ করলে আমাদের শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে শোষণ করে। সকালের খাবার খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে আপনি ভিটামিন সি গ্রহণ করতে পারেন। যদি সকালে না খেতে চান, সমস্যা নেই। দিনের অন্য যেকেনো সময়ও খেতে পারবেন, তবে খালি পেটে হলে ভালো। দুইবেলা খাবারের মাঝে যে বিরতিটুকু পাবেন, সেই সময়টাতে খেতে পারেন ভিটামিন সি।

শীতে কেন ভিটামিন সি খাবেন


""

এছাড়াও কিডনির নানা সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারে জোয়ান। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির পাথর দূর করতে সাহায্য করে জোয়ান।

ক্রমাগত হেঁচকি উঠলে একটু জোয়ানের পানি বা জোয়ান বাটা খেলে মুহূর্তেই স্বস্তি মেলে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। পরিমাণ মতো জোয়ান খেতে হবে। বেশি জোয়ান খেলে পেট গরম হতে পারে।

ওজন কমাতেও জোয়ান বেশ কার্যকরী উপাদান। শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয় জোয়ান। এতেই ফ্যাট বার্ন হয়। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে রাতে এক গ্লাস পানিতে জোয়ান ভিজিয়ে রেখে, পরদিন সকালে ওই পানি পান করুন। জোয়ান ফাইভার সমৃদ্ধ তাই ওজন কমাতেও খুব সাহায্য করে।

পিরিয়ডের ব্যথায় সব নারীই প্রতিমাসে কষ্ট পান। এক্ষেত্রে হালকা গরম পানিতে জোয়ান মিশিয়ে খেলে তলপেট ও কোমরের ব্যথা কমে। তবে রক্তপাত বেশি হলে জোয়ান না খাওয়াই ভালো।

জোয়ান খেলে শরীরের টক্সিন দূর হয়। তাই মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখতে বা দুর্গন্ধ দূর করতে খুব কাজে আসে জোয়ান।

জোয়ানে আছে থিমল তেল। তাই যে কোনো ব্যথা কমাতে জোয়ান কার্যকর। জোয়ানের তেল আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ওষুধ। আর্থ্রাইটিস বা গাঁটে ব্যথাও দূর করে জোয়ান।

জোয়ান খেলে সারবে ১৫ রোগ
জোয়ান খেলে সারবে ১৫ রোগ

জোয়ানে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রভাবে ঠান্ডার সমস্যা কমে। বুকে জমা শ্লেষ্মা কাটাতে জোয়ানের পানি খুব উপকারী। এছাড়াও গলায় ব্যথা হলেও জোয়ান ও লবণ মেশানো গরম পানির ভাপ নিলে তা দ্রুত কমে।

মাথাব্যথাও কমাতে পারে জোয়ান। এজন্য জোয়ানের গুঁড়া করে একটি কাপড়ে মুড়ে তা শুঁকলে মাথা যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি মেলে। জোয়ান বেটে কপালে লাগালেও মাইগ্রেনের ব্যথা কমে।

ব্রণের দাগ দূর করতে ওই স্থানে জোয়ান বেঁটে লাগান। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। ধীরে ধীরে ব্রণের দাগ থেকে মুক্তি মিলবে। জোয়ানে অ্যান্টি ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। তাই চুল ও ত্বকের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ সারায় জোয়ান।

জোয়ান খেলে ম্যালেরিয়া জ্বরের শীতের প্রকোপ কম হয়, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে। এমনকি জোয়ান গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শ্বাসকষ্ট দূর হয়। জোয়ানের আরক খেলেও উপকার হয়।

জোয়ান বাটা ও গুড় সমপরিমাণে মিশিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় অল্প করে খেলে অর্শ্বের ব্যথা কমে ও কোমরের ব্যথা সারে। এছাড়াও জোয়ান আর তিল একসঙ্গে পিষে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এটি খেলে কৃমি সারবে। অনেক শিশুই কৃমির সমস্যায় কষ্ট পায়। কৃমির সমস্যা সমাধানে নিয়মিত জোয়াল খেলে উপকার মিলবে।

অ্যাসিডিটির সমস্যায় সবাই ভোগেন। গলা যন্ত্রণা, বুক যন্ত্রণা, ঢেঁকুর তোলা সব মিলিয়ে অ্যাসিডিটি হলে কষ্টের সীমা থাকে না! এসব থেকে বাঁচতে নিয়মিত জোয়ান খেতে পারেন। এজন্য প্রতিদিন ১ চামচ জোয়ান ও ১ চামচ লবণ এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে।

দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়িতে ঘা বা ব্যথা হলে জোয়ান অত্যন্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে জোয়ানের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্যথার উপশম করতে পারে। নর্থ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা বলছে, দাঁতের মাড়ির সংক্রমণ দূর করতে পারে জোয়ান।

এজন্য হালকা গরম পানিতে জোয়ান মিশিয়ে গার্গল করতে পারেন বা জোয়ানের তেলও ব্যবহার করতে পারেন। এতে গাম ইনফেকশন বা মাড়ির সংক্রমণ দূর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যথাও দূর হয়। জোয়ান পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলেও ব্যথা কমে।

সরিষা শাক


সরিষা শাক ভিটামিন ও মিনারেলের একটি সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ, সি ও কে সৃমদ্ধ পরিপূর্ণ সরিষা শাক শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

"<yoastmark

এতে আছে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট যা নানা রকম ভাইরাল অসুখ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, ভিটামিন কে হাড়ের সুরক্ষা করে এবং মস্তিষ্ককে রাখে দারুণ সচল।
সরিষা শাকে আছে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার। যা আপনার হার্ট ভালো রাখে, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

এন্টিঅক্সিডেন্ট এর সব চেয়ে বড় গুণ হলো, এটি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। মাসসিক চাপ কমানো ও নানা ধরনের ক্যান্সার দূরে রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি এ শাক শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। শারিরীক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে সরিষা শাক। এটি শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে আনে, দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে, এবং হজমশক্তি বাড়ায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরিষা শাক হার্ট এটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতেও কার্যকর সরিষা শাক। ত্বক, চুল, ওজন ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এই সাহায্য করে শাক।

কপি জাতীয় সবজি


শীতের সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুলকপি। সাধারণত রান্না করে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা ভেজে, নানান ধরনের সুপ তৈরি করে বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়।

কপি জাতীয় সবজি
কপি জাতীয় সবজি

ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি।

স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ফুলকপির বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধক

ফুলকপিতে আছে এমন কিছু উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যান্সারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে

হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে ফুলকপি বেশ সহায়ক। এর সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায় এবং কিডনি ভালো রাখে। তাছাড়া ধমনীর ভিতরে প্রদাহ রোধ করতেও সাহায্য করে ফুলকপি।

অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি

সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ দহন হওয়া জরুরি। তবে দহনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে ক্যান্সার বা এ ধরনের রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। ফুলকপিতে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’, যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ভিটামিন এবং মিনারেল

শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির প্রয়োজন। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। পাশাপাশি আছে ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ফুলকপিতে আছে কলিন (এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ এক ধরনের পানিজাতীয় পুষ্টি উপাদান) ও ভিটামিন-বি, যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কলিন মস্তিষ্কের কগনিটিভ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অর্থাৎ এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে ও দ্রুত শিখতে সাহায্য করে। এছাড়া বয়সের কারণে স্মৃতিবিভ্রমের সম্ভাবনা এবং শৈশবে টক্সিনের প্রভাবে মস্তিষ্ক দুর্বলতা কমায়।

হজমে সহায়ক

ফুলকপিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার-জাতীয় উপাদান। যা খাবার হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। তাছাড়া ফুলকপির ফাইবার খাবার হজম হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

লেবু


লেবুর অনেক গুণ। লেবুর শরবত একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়। মাত্র একটি মাঝারি আকৃতির লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড পাওয়া যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

লেবু
লেবু

ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে দ্রুতগতিতে কোলাজেন কোষ উপাদান তৈরি করে ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘সি’। লেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইট্রিক এসিড বিদ্যমান যা ক্যালসিয়াম নির্গমন হ্রাস করে পাথুরী রোগ প্রতিহত করতে পারে।

রুটিন

লেবুর খোসার ভেতরের অংশে ‘রুটিন’ নামের বিশেষ ফ্ল্যাভানয়েড উপাদান আছে যা শিরা এবং রক্তজালিকার প্রাচীরকে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সুরক্ষা দেয়। ফলে স্বভাবতই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। লেবুর অন্যান্য ব্যবহারও কম নয়।

রান্নায় বা আহারে লেবুর ব্যবহার বিজ্ঞানসম্মতভাবেই স্বাস্থ্যপ্রদ। ত্বক বা রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার ঐতিহ্যগত ভাবেই সুপ্রচলিত। বয়সজনিত মুখের স্পট বা দাগ সারাতে লেবুর রস যথেষ্ট কার্যকরী। লেবুর রস ব্যবহারে মুখের ব্রণও দ্রুত সারে। বাজারের ভেজাল মিশ্রিত পানীয় না খেয়ে টাটকা লেবুর রসের সাথে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে লেমোনেড তৈরি করা হয় যা একই সাথে তৃষ্ণা মেটায়।

ভিটামিন সি যুক্ত খাবার ও ভিটামিনের পরিমাণ


ভিটামিন সি কোলাজেন তন্তুর উৎপাদনে সাহায্য করে। তাই ক্ষত নিরাময়ে, কোষ পুনরুদ্ধারে এবং টিস্যু তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা দেহের অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলোর (যেমন ভিটামিন- ই) ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে দেহে ফ্রি-র‌্যাডিকেলজনিত সমস্যা হয় না। এটি খাদ্য থেকে আয়রন পরিশোষণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করে। অর্থাৎ এই একটি ভিটামিন কিন্তু আপনার অন্য ভিটামিনগুলোর জন্যও কাজ করবে। আবার দেহের প্রতিরক্ষা তথা ইমিউনিটি সিস্টেমকেও ক্ষমতাশালী করে ভিটামিন সি।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সিউরসেল-এর পুষ্টিবিদ রাশেদা আফরিন মেরিনা বয়সভেদে ভিটামিন সি-এর একটি চার্ট দিয়েছেন পাঠকদের জন্য।

বয়স পুরুষ নারী
৬ মাস পর্যন্ত ৪০ মিলিগ্রাম ৪০ মিলিগ্রাম
৭ মাস -১ বছর ৫০ মিলিগ্রাম ৫০ মিলিগ্রাম
১-৩ বছর ১৫ মিলিগ্রাম ১৫ মিলিগ্রাম
৪ -৮ বছর ২৫ মিলিগ্রাম ২৫ মিলিগ্রাম
৯-১৩ বছর ৪৫ মিলিগ্রাম ৪৫ মিলিগ্রাম
১৪ -১৮ বছর ৭৫ মিলিগ্রাম ৬৫ মিলিগ্রাম
১৯- বয়স্ক ৯০ মিলিগ্রাম ৭০ মিলিগ্রাম

এছাড়া গর্ভবতী এবং স্তন্যদায়ী মায়েদের অতিরিক্ত ভিটামিন সি নিতে হবে। গর্ভবতীদের জন্য ভিটামিন সির সুপারিশকৃত দৈনিক মাত্রা ৮৫ মিলিগ্রাম। স্তন্যদায়ী মায়েদের দিনে ১২৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন গ্রহণ করা উচিত।

ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার
কমলা, লেবু, জলপাই, মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, বরই, জাম্বুরা, আমলকি, জামের মতো সাইট্রাস ফল; পাকা পেঁপে, পেয়ারা, আনারস, তরমুজ, আম, লিচুর মতো মিষ্টি ফল; সরিষা শাক, পালং ও পুঁইশাক, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, ঢেঁড়স, গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম, থানকুনি পাতা, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতায় ভিটামিন সি থাকে।

কোন ফল/সবজিতে কতখানি ভিটামিন সি?

এবার জেনে নেওয়া যাক কোন ফলে কী পরিমাণ ভিটামিন সি পাবেন।

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও লেবুর চেয়েও বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায় লিচুতে। প্রতি ১০০ গ্রাম লেবুতে ভিটামিন সি আছে ৫৩ মিলিগ্রাম। আর একশ গ্রাম লিচুতে আছে ৭১.৫ মিলিগ্রাম। এদিকে আপেল বেশ পিছিয়ে। ১০০ গ্রাম আপেলে আছে মাত্র ৪.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

1. ১০০ গ্রাম কলায় আছে ৮.৭ মিলিগ্রাম।

2. ১০০ গ্রাম পেয়ারায় আছে ২২৮ মিলিগ্রাম।

3. ১০০ গ্রাম কমলায় আছে ৫৩ মিলিগ্রাম।

4. ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে আছে ৬১ মিলিগ্রাম।

5. ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে আছে ৮৯ মিলিগ্রাম।

6. ১০০ গ্রাম টমেটোতে আছে ২৩ মিলিগ্রাম।

7. ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে আছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম।

8. ১০০ গ্রাম আঙুরে আছে ৪ মিলিগ্রাম।

9. ১০০ গ্রাম আনারসে আছে ৪৭.৮ মিলিগ্রাম।

10. ১০০ গ্রাম বেদানায় আছে ১০.২ মিলিগ্রাম।

11. ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ায় আছে ৯ মিলিগ্রাম।

12. ১০০ গ্রাম তরমুজে আছে ৮.১ মিলিগ্রাম।

খেয়াল রাখবেন
অবশ্যই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত তাপে ও অনেকক্ষণ সেদ্ধ করলে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। তাই ভিটামিন সি যুক্ত সবুজ শাক-সবজি অল্প তাপে সেদ্ধ করতে হবে বা তাজা কাঁচা অবস্থায় খেতে হবে।

ভিটামিন সি এর কাজ কি? ভিটামিন সি এর উপকারিতা


এই ভিটামিন এর অপর নাম হচ্ছে প্রান শক্তি । আর ভিটামিন-সি হচ্ছে একটি প্রানশক্তি । ভিটামিন-সি এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid) । এটি একটি জৈব অম্ল, যা বিভিন্ন শাকসবজি, ফল-মুল প্রভৃতিতে পাওয়া যায় । ভিটামিন সি এর রাসায়নিক সংকেত C6H8O6 এটি একটি সাদা দানাদার পদার্থ । মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় প্রান শক্তি এবং পুষ্টি উপাদান ।

ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম কি?

অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid) হচ্ছে ভিটামিন-সি এর রাসায়নিক নাম । ভিটামিন সি এর রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে C6H8O6 এবং এটি একটি সাদা দানাদার পদার্থ ।

স্কার্ভি রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?

ভিটামিন-সি সাধারণত টকজাতীয় খাবারে থাকে । আর মানব দেহে এই ভিটামিন-সি এর অভাব দেখা দিলে স্কার্ভি নামক রোগ হয়ে থাকে ।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার

এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন মূলত শাকসবজিতেই পাওয়া যায় । লেবু ও লেবুজাতীয় সব টক ফল ভিটামিন সির চমৎকার উৎস । কমলা, মালটা, আঙুর, পেঁপে, আনারস, জাম ইত্যাদি ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি । সবুজ পাতা গোত্রের সব সবজি ও শাকেও পাওয়া যাবে এই ভিটামিন । এ ছাড়া কিছু মসলাজাতীয় উদ্ভিদ যেমন: কাঁচা মরিচ, পুদিনাপাতা বা পার্সলেপাতা ভিটামিন সির ভালো উৎস ।

ভিটামিন সি এর অভাবজনিত সমস্যা ও রোগ

শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় । তাই ভিটামিন সি এর অভাবজনিত লক্ষণ গুলো প্রকাশ হওয়া মাত্রই সতর্ক হওয়া উচিত । ভিটামিন সি এর অভাবে যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তা নিম্নরূপ —-

শুষ্ক ত্বক

ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উপাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ভিটামিন সি এর অভাব হলে ত্বক শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । এর ফলে ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠার পাশাপাশি কুঁচকে যায় ।

ক্ষতের নিরাময়ে ধীরগতি

ভিটামিন সি কোলাজেন উপাদানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে । তাই শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি দেখা দিলে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া অত্যান্ত ধীরে হয় ।

দাঁত ও মাড়ি থেকে রক্তপাত

ভিটামিন সি শুধু ত্বকের ক্ষেত্রে নয়, দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতির কারণে কোলাজেনের গঠন দুর্বল হয়, ফলে মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে ।

অস্থিসন্ধির ব্যথা

অস্থিসন্ধির কার্টিলেজ প্রাথমিকভাবে কোলাজেন দিয়ে তৈরি । তাই ভিটামিন সি এর অভাব হলে হাড়ের চারপাশের কম প্যাডিং হয় । এর ফলে একটুতেই অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে ।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

ভিটামিন সি এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ । এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক । তাই শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব দেখা দিলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে । যার কারনে মানুষের ঘনঘন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ।

অবিরাম ক্লান্তি

ভিটামিন সি এর অভাবজনিত লক্ষণ হলো সব সময় ক্লান্তি বোধ করা । এর অভাবে দুর্বল লাগা এবং রক্তশূন্যতাও হতে পারে । তাছাড়া ভিটামিন সি এর অভাবে কাজ করায় অনীহা, আলস্য এবং শিক্ষিত হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে ।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার ও এদের কাজ


নিম্ন লিখিত খাদ্য ও ফলগুলি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ:

কমলা,
লেবু,
মিষ্টি লেবু,
আঙুরের মত সাইট্রাস ফল
স্ট্রবেরি,
গুজবেরি,
ব্লুবেরি,
রাস্পবেরী এবং ক্র্যানবেরী মত বেরি
ফুটি
তরমুজ
খরমুজ
টমেটো
আনারস
কিউই
পেয়ারা
আম
পেঁপে
ব্রোকলি
লাল মরিচ
সবুজ মরিচ
ফুলকপির মত সবজি
সবুজ শাক
পালং
বাঁধাকপি
শালগম
মিষ্টি এবং সাদা আলু

কিছু প্যাকেজ খাবার যেমন সিরিয়াল এবং ডালে ভিটামিন সি রয়েছে (যা প্যাকেজিংয়ের উপাদানগুলি পরীক্ষা করে জানা যেতে পারে)।

ক্যাপসুল, ট্যাবলেট এবং কৃত্রিম পরিপূরক হিসাবে পাওয়া যায়। এগুলি চিকিৎসার জন্য বিশেষ মাত্রায় পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্য কাঁচা খেতে হয়। কারণ রান্না বা গরম করলে অথবা মাইক্রোওয়েভ করলে এদের পুষ্টিগুণ এবং ভিটামিন সি’র পরিমাণ হ্রাস পায়। একই ভাবে, দীর্ঘ দিন এদের মজুদ করে রাখা অথবা সূর্যালোক লাগানো উচিৎ হবে না।

খাদ্যের দোকানের জন্য যখন এই পণ্যগুলি কেনা হবে তখন শক্ত বাক্সে প্যাক করা থাকে যাতে তাদের প্রাকৃতিক উপাদানগুলি সুরক্ষিত থাকে এবং অত্যধিক সূর্যালোক থেকেও বাঁচে। এই ফল এবং সবজিগুলি তাজা এবং রান্না না করা অবস্থায় ধুয়ে নিয়ে খাওয়া সব চেয়ে ভাল।

ভিটামিন সি ট্যাবলেট


ভিটামিন সি ট্যাবলেট / Vitamin C Tablet রক্তের লোহিত কণিকার উৎপাদন, ক্ষত নিরাময়, টিস্যু মেরামতের, সেল ক্ষতি, মামড়ি-পড়া এবং অন্যান্য অবস্থার চিকিৎসার জন্য ব্যবহার হয়

এই ভিটামিন সি ট্যাবলেট / Vitamin C Tablet নিম্নলিখিত সক্রিয় উপাদান রয়েছে: Vitamin C। tablet ফর্ম পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি ট্যাবলেট / Vitamin C Tablet ব্যবহারসমূহ, কম্পোজিশন, ডোজ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা এর সাথে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য নীচে তালিকাভুক্ত করা হলো:

ব্যবহার

চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভিটামিন সি ট্যাবলেট / Vitamin C Tablet নিম্নলিখিত রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করে:
রক্তের লোহিত কণিকার উৎপাদন
ক্ষত নিরাময়
টিস্যু মেরামতের
সেল ক্ষতি
মামড়ি-পড়া

ভিটামিন সি এর উপকারিতা


এখন আমরা জানি যে কোন খাদ্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এবারে ভিটামিন সি’র কিছু ব্যবহার এবং উপকার জেনে নেওয়া যাক:

ক্ষত নিরাময় ত্বরান্বিত করে:

ভিটামিন সি একটি উৎকৃষ্ট ক্ষত নিরাময়-কারী যৌগ। শুধু ক্ষতের সংক্রমণই রোধ করে না, ভিটামিন সি ক্ষত-মুখ বন্ধ করতে এবং ত্বকে ক্ষতের দাগ হ্রাস করতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

ত্বকের উপকারী:

সূর্যের তাপে ঝলসে যাওয়া ত্বকের নিরাময়ের জন্য খাওয়ার ওষুধে এবং স্থানীয় ভাবে প্রলেপ দেওয়ার ওষুধে ভিটামিন সি ব্যবহার করা হয়। কোলাজেন এবং ইলাস্টিন তৈরিতে ভিটামিন সি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কোলাজেন এবং ইলাস্টিন চামড়ার টান-টান ভাব এবং স্থিতিস্থাপকতা (ইলাস্টিসিটি) উন্নত করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণের জন্য ভিটামিন সি দেহে বয়সের ছাপ পড়াকে দূরে রাখে।

দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করে:

ভিটামিন সি দেহের প্রতিরক্ষার কোষগুলিকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে উদীপ্ত করে এবং অক্সিডেটিভ চাপ হ্রাস করে। এতে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। এছাড়াও ভিটামিন সি চামড়ার বাধাগুলিকে শক্তিশালী করে, ফলে প্যাথোজেনগুলি দেহে প্রবেশ করতে বাধা পায়। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

মাড়ির উপকার:

ভিটামিন সি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উদীপ্ত করে মাড়িতে কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধিকে সহায়তা করে, এবং এই ভাবে মাড়ির রক্তক্ষরণ এবং সংক্রমণ রোধ করে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

ওজন হ্রাসে সহায়তা করে:

ভিটামিন সি একটি প্রাকৃতিক যৌগ, যা ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এটি শরীরের বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে এবং বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি করে এবং এই ভাবে ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

স্মৃতি শক্তির উন্নতি করে:

গবেষণাগুলি জানাচ্ছে যে ভিটামিন সি’র অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণগুলি প্রদাহ এবং মস্তিষ্কে ফ্রি-র‍্যাডিক্যাল জনিত ক্ষতি হ্রাস করে। এই কাজগুলি না করলে বয়স-সম্পর্কিত স্মৃতি হ্রাস এবং জ্ঞানের হ্রাস হতে পারে।

ভিটামিন সি এর অভাবজনিত লক্ষণ


প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব, ভুল খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনসহ নানা কারণে শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, দেহে ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে নাও বোঝা যেতে পারে। দীর্ঘদিন পর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে। তাই ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের প্রতি অনেকেই কম গুরুত্ব দেন।

ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বক ও চুলের যত্নেও এর জুড়ি নেই। ভিটামিন সি এর অভাবে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

আসুন দেখে নিই, ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে কী কী সমস্যা হয়-

ফ্যাকাশে ত্বক

ত্বকের লাবণ্যতা ধরে রাখে ভিটামিন সি। ভেতর থেকে ত্বক রাখে কোমল ও মসৃণ। ভিটামিন সি এর অভাবে ত্বক খসখসে ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়। শীতকালে অনেকেরই ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। এই সমস্যা কেবল আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণেই না, ভিটামিন সি এর অভাবেও হতে পারে।

ঠান্ডার সমস্যা

ঠান্ডা, কাশি, জ্বরজ্বর ভাব, গলাব্যথা- এই সমস্যাগুলো সাধারণ সমস্যা বলেই অনেকে ধরে নেন। ঋতু পরিবর্তনের কারণে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যাদের ভিটামিন সি এর অভাব আছে তারাই এই সমস্যাগুলোতে ভোগেন বেশি। কারণ জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা তখন শরীরের থাকে না। ফলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়।

বিবর্ণ চুল

ভিটামিন সি এর অভাবে চুলের রং পরিবর্তন হয়ে লালচে হয়ে যায় ও শুষ্কতা দেখা দেয়। এছাড়া চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত চুল ঝরে।

অ্যানিমিয়া দেখা দেয়

অল্প কাজ করেই হাঁপিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ, মাথাব্যথা, হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যাগুলো অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। ভিটামিন সি এর অভাবে অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

দাঁতের সমস্যা

দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। সামান্য আঘাতে মাড়ি দিয়ে রক্ত ঝরলে কিংবা দাঁতের রং হলুদ হলে বুঝতে হবে দাঁতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি করে।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার

লেবু ও লেবুজাতীয় টক ফল ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস। আঙুর, কমলা, মালটা, আনারস, পেঁপে, জাম ইত্যাদি ফলে ভিটামিন সি আছে। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। পুদিনা পাতা ও কাঁচা মরিচেও ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

ভিটামিন সি এর অভাবজনিত যেকোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। মনে রাখা ভালো, এই সমস্যাগুলো শুধু ভিটামিন সি এর অভাবে নয়, অন্য কোন কারণেও দেখা দিতে পারে। রোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ভিটামিন সি সম্পর্কিত সকল তথ্য

 

আমাদের ওয়েবসাইট www.googlesus.com এবং www.prothomalornews.com-এ এই নিবন্ধটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা আশা করি আপনি এখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য পেয়েছেন এবং আমরা এই তথ্য প্রদান করতে পেরে কৃতজ্ঞ। আমরা আপনাকে একটি সঠিক উত্তর দিতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব. আপনি যা খুঁজছেন সে সম্পর্কে আপনার যদি কোনো তথ্য থাকে, আমাদের বলুন এবং আমরা খুব শীঘ্রই এটি খুঁজে পাব। এবং আমাদের সাথে থাকতে নিচের পোস্টটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। আপনি পরবর্তী আপডেট পাবেন. ধন্যবাদ.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
WAYS TO GET RID OF ALLERGIES WAYS TO STOP HAIR LOSS Eid SMS Greeting Poems EID Greetings Message Love SMS AIDS 2026 Football World Cup Airport Personal Injury Lawyers