সাতক্ষীরায় মানববন্ধনে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি

সাতক্ষীরায় মানববন্ধনে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি

সাতক্ষীরায় মানববন্ধনে জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি : আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন চত্ত্বরে সকাল ১০:৩০ টায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর সহযোগিতায় জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই দাবী জানানো হয়

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহবায়ক ও জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য মোঃ আনিছুর রহিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তৃতা করেন ফোরামের সদস্য সচিব মাধব চন্দ্র দত্ত্ব, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও ফোরামের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ফোরামের সদস্য আলী নূর খান বাবলু, এ্যাড. ও ফোরামের সদস্য ফাহিমুল হক কিসলু, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ফোরামের সদস্য শেখ আফজাল হোসেন, ফোরামের সদস্য ফরিদা আক্তার বিউটি, খুরশীদ জাহান শীলা, আশাশুনি উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্য মোহন্ত কুমার হালদার, লিডার্স এর প্রকল্প সমন্বয়কারী এস. এম রাজু জবেদ প্রমূখ। উল্লেখ্য, উপকূলীয় আশাশুনি, শ্যামনগর উপজেলার নারীরা সুপেয় পানির দাবীতে কলস নিয়ে উক্ত মানববন্ধন ও সমাবেশে হাজির হন।

মানববন্ধন ও সমাবেশে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে। আগামীতে সরকারের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দূর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। ৬০ এর দশকের বাঁধের পরিকল্পনা আজ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলের মানুষের গলার ফাঁস। ঘূর্ণিঝড় ও উচ্চ জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে বার বার মানুষ তার সহায় সম্বল হারাচ্ছেন এবং মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের অভিঘাত মোকাবেলায় স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুন:নির্মান করতে হবে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দু’টি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি। জনস্বার্থে দ্রুত ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে হবে। উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের নেওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মেরু অঞ্চলের বরফগলন ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবনাক্ততা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলকে দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করার দাবী জানান তারা।

বক্তারা বলেন, উপকূলের মানুষের খাবার পানির তীব্র সংকট। খাবার পানির জন্য এক জন নারীকে প্রতিদিন ৪/৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়া পানির লাইনে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এজন্য তারা উপকূলের সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের দাবী তুলে ধরেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশে উপকূলের সার্বিক উন্নয়নে ২০২২/২০২৩ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবী জানানো হয়। একই সঙ্গে উপকূলের মানুষের জীবন জীবিকা সুরক্ষায় বিশেষ অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবী জানানো হয়।

মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে জেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সদস্যবৃন্দ সাতক্ষীরা জেলা প্রসাশক এর নিকট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর চারটি দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

পরিতোষ কুমার বৈদ্য
শ্যামনগর প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা।

About Post Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: